Reading Time: 10 minutes

 

 

উড়িষ্যার একটি প্রবাদ আছে, ‘মাছ খাও তো ইলিশ, চাকরি করো তো পুলিশ-!’ প্রবাদে যাই বলুক না কেন, ইলিশ মাছের প্রতি শুধু পুলিশ নয়, লোকে যে পেশাতেই চাকরী করুক না কেন, সবাই ইলিশ ভক্ত। অতি প্রাচীণকাল হতে বাংলার মানুষের কাছে ইলিশ মাছ সুপরিচিত ও সুখাদ্য। রুপালি নদীর রুপালি এ মাছের কথা  বাংলার মানুষের মনে এলেই যেন এক উৎসবের ছোঁয়া লেগে যায়। ঐতিহ্য আর স্বাদের জন্য এটি শুধু দুই বাংলায় নয়, পরিচিত পুরো বিশ্ব জুড়ে। সেই ইলিশ মাছের আদ্যোপান্ত নিয়েই এ লেখা। জানবো আমরা ইলিশ নিয়ে নানান রকম অজানা গল্প আর তথ্য!

উৎপত্তি

ইলিশের সঠিক উৎপত্তি প্রথম কোথায় হয়েছিলো তা নিয়ে খানিকটা বিতর্ক আছে। আমরা সে বিতর্কে না গিয়ে প্রথমত প্রচলিত তথ্যটি জানি। সবাই ইলিশকে নদীর মাছ হিসেবে জানলেও কিন্তু এর উৎপত্তি আসলে সমুদ্রে। সমুদ্রে থেকে নদীতে ইলিশ আসে ডিম পাড়তে। সাধারণত পেলাজিক প্রকৃতির মাছটি বঙ্গোপসাগরের ১০০ মিটার গভীরতার মধ্যে বসবাস করে। সাগরের পরিবেশে ছোট আকারের দ্রুতগামী পেলাজিক স্বভাবের মাছ হিসেবে দলবদ্ধভাবে সমুদ্রের উপরিভাগের অন্ধকার অংশে এদের বেশি দেখা যায়। ইলিশ মাছ সমুদ্রে বাস করলেও প্রজননক্ষম মাছগুলি প্রজননের জন্যে সমুদ্র থেকে মিঠাপানির নদ-নদীতে ডিম ছাড়তে চলে আসে। এই লোনা ও মিঠাপানি উভয় পরিবেশে বেঁচে থাকার গুণসম্পন্ন ইলিশকে ‘এনাড্রমাস’ (Anadormous) পরিযায়ী মাছ বলা হয়।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তবে এদের মাঝে বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রহ্মপুত্রের কিছু অংশ) এবং গোদাবরী নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর মাঝে পদ্মার ইলিশকে বলা হয় সবচেয়ে স্বাদের। ভারতের রূপনারায়ণ নদী, গঙ্গা, গোদাবরী নদীর ইলিশ তাদের সুস্বাদু ডিমের জন্য বিখ্যাত। ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মত সুস্বাদু হয় না। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশেও এই মাছ পাওয়া যায়। সেখানে মাছটি “পাল্লা” নামে পরিচিত। এই মাছ খুব অল্প পরিমাণে থাট্টা জেলায় ও পাওয়া যায়। বর্তমানে সিন্ধু নদীর জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে পাল্লা বা ইলিশ আর দেখা যায় না।

ইলিশ মাছনামকরণ

ইলিশের নামকরণের আগে আমার শোনা কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি মজার গল্প বলি। কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কবি স্বভাবের জন্যই হোক বা শখেই হোক রাত-বিরেতে হেঁটে বেড়াতে ভালোবাসতেন। তো, এমনই একরাতের কথা। গুণ সাহেব বেড়িয়েছেন হাঁটতে। যেই না হেঁটে কয়েক কদম গিয়েছেন, ওমনি টহলদার কয়েকজন পুলিশ তাকে ধরলো। রাস্তার মাঝে রাত্রিবেলা এক অদ্ভুত অবস্থা। গুণ সাহেব কিছুটা নরম হয়ে বললেন, ‘আপনারা আমাকে আটকালেন কেন? আমি একজন কবি।’

পেছন থেকে একজন পুলিশ এগিয়ে এসে বললেন, ‘আপনি যে কবি, এটা বুঝব কী করে? প্রমাণ দিন?’ গুণী কবি তৎক্ষণাৎ  দু’লাইন কবিতা রচনা করলেন। বললেন, ‘মাছের রাজা ইলিশ, মানুষের রাজা পুলিশ।’ ব্যস! গুণের পরিচয় পেয়ে তো পুলিশ তাকে ছেড়ে দিলো। তবে ইলিশের পরিচয়ের জন্য আসলে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। এর রুপালি চকচকে গা-ই এর পরিচয়। আর স্বাদের কথা বললে তো ইলিশ সবচেয়ে সেরা মাছ। তবে, এই ইলিশকেও কিন্তু অনেকে অনেক নামে চেনে বা ডাকে।

ইলিশকে সাধারণত ইংরেজিতে Hilsa Fish বলা হয়। যার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha. এটি বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয়। ধারণা করা হয়, বিশ্বে মোট ২৫টি নামে ইলিশকে ডাকা হয়। এদের মধ্যে বাংলাদেশে বলা হয়, ইলিশ মাছ, ইলিশ, পদ্মা ইলিশ, জাটকা—দেশের কোনো কোনো এলাকায় ইলিশকে ইলশাও বলে। মিয়ানমারে বার্মিজ ভাষায় বলা হয় না-থা-লোক, না-থালাংক। ভারতে বাংলা ভাষাভাষীরা বলেন ইলিশ এবং ছোট ইলিশকে বলেন খোকা ইলিশ। অসমিয়া ভাষায় বলা হয় ‘ইলিহি’। তেলেগু ভাষায় বলা হয় পালাসা, পালাসাহ, পালিয়া, পোলাসা। অন্যদিকে গুজরাটি ভাষায় বলা হয় একে চাকশি, চাকসি, চাসকি, পাল্লা। হিন্দিতে বলা হয় হিলসা, পালা। আরো আছে, যেন এর নামের শেষ নেই। কানাড়া ভাষায় বলা হয় মুল্লাসু, পালাসা, পালিয়া, পোলাসা। মালয়ালাম ভাষায় বলা হয় পালিয়াহ, পালুভা, ভালাভা। মারাঠি ভাষায় বলা হয় পালা, পাল্লা, পালভা। উড়ে ভাষায় বলা হয় ইলিশ, ইলিশা, জোড়ি। তামিল ভাষায় বলা হয় উল্লাম, ভেনগান্নাই, সেভা।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় তামিল ভাষায় ইলিশকে বলা হয় সেভ্ভা, উল্লাম। পাকিস্তানের পাঞ্জাবি ভাষায় ইলিশকে পাল্লা এবং উর্দুতে পালো ও পুল্লা বলা হয়। উপমহাদেশ ছাড়িয়ে রাশিয়ায় রুশ ভাষায় এই ইলিশকেই ডাকা হয় তেনুয়ালোসা নামে। আরব দেশগুলোতে ইরাকে আরবি ভাষায় ইলিশের নাম শোর। ইরানে ফারসি ভাষায় ইলিশকে কয়েকটি নামে ডাকা হয়। যেমন: বার্ক, মাহি খোর কুচিকু, সবোর, সবুর, জাবুর, জমুর। ওমানে ইলিশকে ডাকা হয় চাকোরি নামে। আর ম্যান্ডারিয়ান চায়নিজ ভাষায় চীনে ইলিশের নাম ইচাচা।

বাসস্থান

ইলিশ মাছের অঞ্চল বা বাসস্থান মোটামোটি নির্দিষ্ট। ইলিশ মাছের ডিম ছাড়তে এদের মিঠা পানিতে আসতে হয়। ঘোলা পানিতে ইলিশ মাছের পোনা বাঁচতে পারেনা। ফলে মিঠা পানির অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায়। সাধারণত বড় নদী এবং মোহনায় সংযুক্ত খালে বর্ষাকালে পাওয়া যায়। এ সময় ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে সমুদ্র থেকে বড় নদী এবং মোহনায় সংযুক্ত খালে আসে। ইলিশ মাছ চাষ করা যায় না। ভোলা জেলার তজুমুদ্দিনে মেঘনা ও বঙ্গপোসাগরের মোহনায় সর্বাধিক পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। ভোলা জেলা ইলিশের জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনায় ইলিশ-ও খুব বিখ্যাত। পদ্মার ইলিশ জগত জুড়ে নাম। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইলিশ পাওয়া যায় বরগুনা জেলায়। বাংলাদেশ ইলিশ মাছ রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।

ইলিশ মাছইলিশ প্রজনন চক্র

ইলিশ মাছ প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য মোতাবেক সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মোহনা অঞ্চলে ডিম পাড়ে। বর্তমানে ইলিশের Breeding Frequency, প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ ও মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২২ দিনব্যাপী ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ করেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান সহায়ক হিসাবে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে ইলিশের ডিম ধারণ ক্ষমতা ও অসম লিঙ্গ বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা দীর্ঘয়োদে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । এ অবস্থায়, কৃত্রিম প্রজনন বাস্তবায়ন এবং ক্ষেত্র তৈরির মতো বিকল্প ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অতিব জরুরি। (তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)।

উৎসবে ইলিশ

উৎসব মানেই যেন বাঙালির ঘরে ঘরে ইলিশ। যে কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে স্বজনদের সাথে ইলিশ ভাগাভাগি করে খাবার আনন্দটা যেন অনেক বেশিই। তবে ইলিশের দাম ব্যয়বহুল হওয়ায় সেটা অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু উৎসবে ইলিশের কমতি যেন কখনো ঘটেনি। বৈশাখের প্রথম দিন, নতুন বছরকে বরণ করে পুরোনো ঐতিহ্যকে স্বরণ করতে ইলিশ থাকবেই খাদ্য তালিকায়। অনেক বাঙালি হিন্দু পরিবার বিভিন্ন পূজার শুভ । তবে সবার মধ্যে এটা দেখা যায় না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দুদের মাঝে এই প্রথা প্রচলিত আছে। তাদের অনেকে লক্ষ্মী দেবীকে ইলিশ মাছ উৎসর্গ করেন। অনেকেই ইলিশ উৎসর্গ ছাড়া পূজাকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।

ইলিশের নামে নাম

অনেক জায়গা ও খাবার রেস্তোরার নাম ইলিশের নামে গড়ে উঠেছে। যেমন, চাঁদপুরকে বলা হয় ইলিশের বাড়ি। অন্যদিকে এদিকে ইলিশ মাছ কেন্দ্রিক নানান পার্ক গড়ে উঠেছে। কুয়াকাটায় ‘ইলিশ পার্ক গেট’ আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে একটি যুব সংঘ রয়েছে যার নাম ইলিশমারি যুব সংঘ এবং রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে তিনটি মন্দিরের নামের সঙ্গে ইলিশকোল সংযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, কক্সবাজারের পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিদার বাড়িটি কয়েক শ বছরের ইতিহাস বহন করে আসছে। আবার আপনি যদি বরিশাল-মাওয়া-ঢাকা রোডে যান, তবে দেখতে পাবেন ’ইলিশ পরিবহণ।’

সাহিত্যে ইলিশ

বাংলা সাহিত্যে ইলিশ রসনা নিয়ে যেমন অনেক মজাদার লেখনি আছে, তেমনি আছে হৃদয়বিদারক গল্প-উপন্যাস। এসব লেখনি মানুষের জীবন থেকে নেয়া। তেমনি আছে নানান কবিতা আর ছড়াও। আছে মজার ঘটনা। ইলিশ নিয়ে যেমন আছে গোপাল ভাঁড় আর রাজার মজার কাহিনী, তেমনি আছে এপার ও ওপার বাংলার মর্মছোঁয়া কাহিনী। বড় বড় লেখকের লেখনী বার উঠে এসেছে ইলিশ। ঠিক যেমনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন তাঁর পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে—

‘বর্ষার মাঝামাঝি।

পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরার মরশুম চলিয়াছে। দিবারাত্রি কোনো সময়েই মাছ ধরিবার কামাই নাই। সন্ধ্যার সময় জাহাজঘাটে দাঁড়াইলে দেখা যায় নদীর বুকে শত শত আলো অনির্বাণ জোনাকির মতো ঘুরিয়া বেড়াইতেছে।…শেষ রাত্রে ভাঙা ভাঙা মেঘে ঢাকা আকাশে ক্ষীণ চাঁদটি ওঠে। জেলে নৌকার আলোগুলি তখনও নেভে না। নৌকার খোল ভরিয়া জমিতে থাকে মৃত সাদা ইলিশ মাছ। লণ্ঠনের আলোয় মাছের আঁশ চকচক করে, মাছের নিষ্পলক চোখগুলিকে স্বচ্ছ নীলাভ মণির মতো দেখায়।

কুবের মাঝি আজ ধরিতেছিল…।’

আবার ইমদাদুল হল মিলনের ‘‌ছোট্ট হরিণ ও ইলিশ মাছ বাজি ধরেছিল’‌— এক অন্য ধরনের বন্ধুত্বের গল্প। অন্যদিকে সমাজের একই সঙ্গে মানবিক ও এক করুণ বাস্তব চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় শৈবাল মিত্রের ‘‌ইলিশের রাত’‌ গল্পে। যেখানে দেখা যায়, দারিদ্র্য আর ইলিশের সম্পর্ক যেন মাখামাখি। সংসারের একমাত্র রোজগারে সমর্থ ছেলের গোপনে মাছ কিনে এনে রাতে মাকে দিয়ে ভাজিয়ে খাওয়া এবং তারপর একে একে বাবা ও ভাইবোনেদের জেগে উঠে ভাগ নেওয়ার যে এক করুণ চিত্র । মঈনুল হাসানের ‘‌বেনে বৌ’‌ মনকে বিষণ্ণ করে তোলে।

অন্যদিকে ছড়ায়-ও এসেছে ইলিশের কথা। এসেছে প্রবাদে।

‘‘মাছের মধ্যে ইলিশ রাজা,

রুই-কাতলা তাহার প্রজা।” অথবা,

‘‘পুঁই শাকে যদি দাও ইলিশের মাথা,

ননদিনি কয় তার গুপ্ত যত কথা।’’ কিংবা,

‘‘যদি ইলিশের মাথা দিয়া রান্ধ কচুশাক,

গোমড়া শ্বশুর আনন্দেতে হইবে সবাক।’’

অন্যদিকে বুদ্ধদেব বসুরই অন্য আরেকটি কবিতা ‘নদীস্বপ্ন’ থেকে এই উদ্ধৃতিটুকু পড়লে,

“ইলিশ কিনলে? আঃ বেশ বেশ তুমি খুব ভালো, মাঝি

উনুন ধরাও ছোকানু দেখাবে রান্নার কারসাজি।” ইলিশ নিয়ে সাহিত্যের নানা রং দেখা যায়।

ইলিশ মাছইলিশের পুষ্টিগুণ

ইলিশ মাছ শুধু স্বাদে নয়, এর পুষ্টিগুণ-ও অনন্য। এটির পুষ্টিগুণ জেনে নেই-

ইলিশে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্ক ও চোখের জন্য উপকারী। রয়েছে প্রচুর তেল, যা নার্ভ সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। হার্টে যে খারাপ কোলেস্টেরল রয়েছে, তা ইলিশ মাছের এই ফ্যাট বের করে দিতে পারে। এ মাছকে বলা হয় ভিটামিন ডির ভালো উৎস। এই মাছ খেলে ত্বক ও চুল ভালো থাকে। ইলিশ মাছ রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া শরীরের নানা রকম ব্যথা কমায়। এই মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে ও স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে। শুধু তাই নয়, ইলিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি। এ ছাড়া পটাশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম।

শুরু করেছিলাম একটি গল্প দিয়ে, লেখাটা শেষ-ও করি একটি ছোট্ট কৌতুক দিয়ে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে বিচারক জিজ্ঞেস করলেন, ‘মৃত্যুর আগে তোমার কোনো ইচ্ছে থাকলে বলো।’ ম্লান চেহারা কিছুটা প্রসন্ন করে লোকটি বললেন, ‘হুজুর, মৃত্যুর আগে ও মৃত্যুর পরে আমার দুটো ইচ্ছে আছে।’

‘বলো।’ বিচারক জানতে চাইলেন।

‘পুরো একবেলা ইলিশ মাছ খেতে চাই। আর মৃত্যুর পর আমার দেহের সঙ্গে যেন অন্তত একজোড়া ইলিশ মাছ দেওয়া হয়।’

‘এত কিছু থাকতে ইলিশ মাছ কেন?’

‘হুজুর, প্রতিটি ধর্মগ্রন্থেই অনেক ভালো ভালো কথা লেখা আছে, ভালো খাবারের কথাও বলা আছে। কিন্তু কোথাও ইলিশের কথা লেখা নেই। এত স্বাদের একটা খাবারের কথা কেন লেখা নেই_ এটা যেমন একটা প্রশ্ন, আর লেখা নেই বলেই স্বর্গে হয়তো ওটা পাওয়া যাবে না বলে আমার ধারণা। তাই মৃত্যুর আগে ওটা পেট ভরে খেয়ে যেতে চাই। আর মৃত্যুর পর নিয়ে যেতে চাই এ জন্য যে সবাই যেন বলে, আহারে লোকটা আর যা-ই হোক, ইলিশ ভালোবাসত খুব।’

বিচারক হেসে বললেন, ‘মৃত্যুর পর তুমি স্বর্গে যাবে_ এটা কে বলল?’

‘কেউ বলেনি। তবে নরকেও যদি যাই, অন্তত ওখানে গিয়ে এ কথাটা বলতে পারব, এখানে আসার আগে প্রাণভরে ইলিশ মাছ খেয়ে এসেছি। আমার মনে আর কোনো দুঃখ নেই।’

স্বর্গ-নরক আসলে অনেক দূরের কথা। পৃথিবীতেই সৃষ্টিকর্তা আসলে আমাদের জীবদ্দশায় ইলিশের মতো ভালো আর স্বাদের খাবার খেতে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের ছোট ছোট ভুলে ইলিশ-ও প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে, জাটকা ধরা বন্ধ করে ইলিশ প্রজননে সাহায্য করতে সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে আপনারা যারা ভাবছেন, যে ইলিশ কিনতে নাভিশ্বাস বেড়িয়ে যায়, ইলিশের মৌসুমেও কিনতে গেলে হিমশিম খান, সেখানে ভালো ইলিশ কিভাবে কিনবেন? এ সমস্যার সমাধান দিতে মীনাক্লিক ডট কম নিয়ে এসেছে অবিশ্বাস্য দামে ভালো এবং মান সম্পন্ন ইলিশ মাছ। ফলে, আপনার পছন্দের সাইজ অনুযায়ী ইলিশ মাছ কিনতে ক্লিক করুন এখানে