Reading Time: 4 minutes

বাজার শব্দাটি শুনলেই আপনার মাথায় প্রথম কোন ছবিটি ভেসে উঠে? বিবর্তনের ধারায় বাজারের ধরণে এসেছে নানান পরিবর্তন। মূলত, বাজার শব্দটির মানে পণ্য লেনদেনের একটি মাধ্যম। কিন্তু, একটা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মাথায় বাজার বলতেই ছিলো গ্রামের মাঝে বিশাল বড় একটি মাঠে সপ্তাহে একদিন বা দু-দিন আয়োজন করে পণ্য নিয়ে বসে বেচা-কেনা। যাকে বলা হতো হাট। সপ্তাহের দু-একদিন বসা সে হাট পরিবর্তন হয়ে এখন গ্রামেও চলেছে রোজকার পণ্য কেনাকাটার বাজার। শহুরে বাজারের ধারাতেও গ্রামের সে ছোঁয়া যে পুরোপুরি ছিলো না তা কিন্তু নয়। শহরের মাঝেও নির্দিষ্ট একটি স্থানে বিশাল বড় জায়গা নিয়ে বাজার গড়ে উঠেছে। যা সবার কাছে কাঁচা বাজার বলে পরিচিত। উন্নত বিশ্বে, বাজারের ধারণাটা পাল্টেছে বহু বছর আগে। Suparmarket বা Grocery shop দিয়ে তাদের শহরের মাঝে একই ছাদের নিচে সকল পণ্য সেকশন অনুযায়ী সাজিয়ে বিক্রি করার পদ্ধতি শুরু হয়। সর্ব প্রথম এ ধরণের সুপারমার্কেট বা সুপার শপের ধারণা নিয়ে আসে আমেরিকা। তাদের পর অন্যান্য দেশও সুপারশপ পদ্ধতিতে পণ্য কেনাবেচা করছে।

বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য সুপারমার্কেট বা সুপারশপের আগমন আসলে মোটামোটি ২০০০ সাল পরবর্তী একটি চ্যালেঞ্জই ছিলো। তবে এ চ্যালেঞ্জ-ই গ্রহণ করলেন জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমেদ। তারই হাত ধরে, ২০০২ সালে বাংলাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হলো একই ছাদের নিচে, সেকশন অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা সকল ধরণের পণ্য নিয়ে কেনাবেচার স্থান মীনা বাজার ঢাকা এবং চট্টগ্রাম দুটি স্থানে আউটলেট স্থাপনের মাধ্যমে শুরুটা হলেও, ধীরে ধীরে মানুষের চাহিদা বাড়ায় তা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার অন্যান্য এলাকাগুলোতেও। ক্রেতাদের অভ্যস্ততার ফলে চাহিদার মাত্রা বাড়ার ফলে মীনা বাজারের সব মিলিয়ে ১৬টি আউটলেটের কার্যক্রম চলছে। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে, চাল, ডাল, সবজি, আটা, ময়দা, নিত্য প্রয়োজনীয় প্রসাধনীসহ একজন মানুষ ও তার পরিবারের জন্য সকল প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাবে এখানে। আর পণ্যের মান নিশ্চিত করা মীনা বাজারের প্রধান ধর্ম। দুইশতেরও বেশি ব্যবস্থাপনা কর্মী নিয়ে মীনা বাজার প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে গ্রাহক সেবার ব্রত নিয়ে। মীনা বাজারের সিইও শাহীন খানের নেতৃত্বে চলছে এই অভিরাম যাত্রা।

অন্যদিকে এখন সময়টা বিশ্বায়নের। বিংশ শতাব্দীতে আমরা কম-বেশি সবাই-ই বিশ্বায়ন শব্দটির সাথে পরিচিত। বিশ্বায়নের যুগে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল ই-কমার্স সেবার উপর। ইন্টারনেটের মাধ্যমে চাইলেই যেন পৃথিবীটাকে হাতের মুঠোয় এনে ফেলা যায়। ই-কমার্স সেবা এই হাতের মুঠোয় এনে ফেলা পৃথিবীটাতে মানুষের  জীবন-মান সহজ করতে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে-বিদেশের যে-কোন প্রান্ত থেকে পণ্য বা সেবার যে প্রাপ্তি লাভ করা যায়, তা-ই মূলত ই-কমার্স সেবা হিসেবে বিবেচিত। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এই ই-কমার্স সেবার ধারাটা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে ই-কমার্স সেবার প্রতি মানুষের আগ্রহটা কম দেখা গেলেও, গত কয়েকবছর ধরে ই-কমার্স সেবার প্রতি ব্যপক আগ্রহ দেখা যায়। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপি করোনাভাইরাসের প্রকোপের ফলেও বর্তমান সময়ে ই-কমার্স সেবার প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই সেবার ধারার বিষয়টি আরো আগে নজরে আসে মীনা বাজার কর্তৃপক্ষের। ২০১২ সালে মীনাবাজারের অনলাইন গ্রোসারি শপ মীনাক্লিক ডট কমএর যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকেই নিষ্ঠার সাথে মীনাক্লিক কর্তৃপক্ষ গ্রাহক সেবা দিয়ে আসছে সঠিক পণ্য ও তার মান নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু মাত্র মীনা বাজারের ১৬টি আউটিলেট থেকে নয়, নিজস্ব তিনটি ডার্ক স্টোর যেখানে রয়েছে কম-বেশি মিলিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ১৭ হাজার পণ্যের সমাহার। মাত্র ৯০ মিনিট ডেলিভারী সময়ের মধ্যে ক্রেতার চাহিদা অনুয়ায়ী সঠিক পণ্যটি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে মীনাক্লিকে কর্মরত আছেন দেড় শতাধিকের বেশি ভেলিভারী ম্যান। অন্যদিকে ম্যানেজমেন্ট কমিটিতেও কাজ করছেন অর্ধ শতাধিক মানুষ। যারা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন তাদের সেবার মান উন্নয়ন করতে এবং গ্রাহকের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি লাভের। শুধু ওয়েবসাইট নয়, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও মীনাক্লিক-এ গ্রাহক পণ্য অর্ডার করতে পারবেন। মীনাক্লিকের জনপ্রিয়তা ও গ্রাহকের আস্থার ফলে এর সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবেও মীনাক্লিক কাজ করছে। এর মধ্যে ইভ্যালি, ধামাকা শপিং উল্লেখযোগ্য।

মীনাক্লিক সবসময় চেষ্টা করছে পণ্যের মান ঠিক রেখে ভিন্ন ধারার পণ্য দিয়ে তাদের ওয়েবসাইট সাজাতে। মীনাক্লিকের জিএম আহমেদ শোয়েব ইকবাল মনে করেন, ভিন্ন ধারার পণ্য প্রচার ও প্রসার বেশি প্রয়োজন। যা গ্রাহকের শারীরিক ও মানসিক তুষ্টি দুটোই রক্ষা করতে পারে। বিশেষত তিনি দেশীয় পণ্যোর প্রচারে বেশি আগ্রহী।  নতুন নতুন ক্যাটাগরি সংযোজনের মাধ্যমে মীনাক্লিকের পরিধি আরো বড় হচ্ছে। ইতোমধ্যেই গ্রাহককে ভেজালমুক্ত ও কেমিক্যাল ছাড়া পণ্য সরবারহের জন্য মীনাক্লিকের নতুন সংযোজন ‘Healthy Living, যেখানে গ্রাহক পাবেন সব অর্গানিক খাদ্যপণ্য

এমন আরো নতুন ও ভিন্ন ধারার পণ্য নিয়ে সামনে মহা সমারহে আসছে মীনাক্লিক। নতুন পণ্যের সন্ধানে গ্রাহক প্রতিনিয়ত ভিজিট করুন মীনা বাজারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মীনাক্লিক ডট কমে!