Reading Time: 6 minutes

আমাদের দেশে একটা সময় প্রায় সব পরিবারই ছিল যৌথ পরিবার। আত্মীয়-স্বজনের মাঝেই কেটে যেত শৈশব। তবে সময়ের সাথে সাথে সবাই শহরমুখী হলো। শহরের ছোট্ট ঘরগুলোতে বাঁধতে শুরু করলো ছোট্ট সংসার। দাদা-দাদি, নানা-নানি, মা-বাবা, চাচা-চাচিকে ছাড়াই এখন বড় হচ্ছে বাড়ির ছোট্ট সদস্যরা। কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে একাকীত্বকে বরণ করে নিয়েছে সকলে। তবে পোষা প্রাণীরা(posha prani) আমাদের এই শহুরে একাকীত্ব কিছুটা হলেও ঘোচাচ্ছে। প্রিয় কুকুর, বিড়াল অথবা পাখিটি হয়ে উঠছে পরিবারের একজন সদস্য। বাড়ির সদস্যদের খেলাধুলার সঙ্গী হয়ে উঠছে প্রিয় কুকুরটি।

বাড়ির পোষা প্রাণীটি((posha prani) বেড়ে উঠে চোখের সামনেই। পরিবারের এই সদস্যটিরও তাই প্রয়োজন যত্নের। শহরে চার দেয়ালে আটকে থাকা পোষা প্রাণীটির থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য সকল বিষয়ে যত্ন নেয়ার দায়িত্বটাও কিন্তু আপনার।

প্রিয় পোষা প্রাণীটির(posha prani) যত্নে কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে? চলুন জেনে নিই।

http://blog.meenaclick.com/index.php/posha-prani/খাদ্যাভ্যাস

  • পোষা ছোট্ট কুকুর বা বিড়ালকে দিনে অন্তত ৫ বার খাবার দেয়া প্রয়োজন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিতে হবে। পোষা কুকুর বা বিড়ালকে কাঁচা মাংস দেয়া যাবে না। নরম করে সিদ্ধ করা মাছ, মাংস ও ভাত দিতে হবে ছোট থেকেই। তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবারও দেয়া যেতে পারে। কিন্তু পোষা প্রাণীর খাবারে মসলা, তেল, লবণ কিংবা হলুদ ব্যবহার করা যাবে না। ছোট্ট কুকুর ছানা যদি মা ছাড়া বড় হয়, তবে বাজার থেকে ল্যাকটল পাউডার কিনে খাওয়াতে হবে। গরুর দুধ বা গুড়া দুধ খাওয়ানো যাবে না
  • কুকুর বা বিড়ালের ছোট থেকেই খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। এতে করে পোষা প্রাণীটি বিভিন্ন ধরণের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত হতে থাকে। সবসময় মাছ-মাংস, ক্যাটফুড ডগফুড কুকুর ও বিড়ালের খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে দেয়। ঘরে তৈরী খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে। সেদ্ধ সবজি ও ফলমূল দেয়া যেতে পারে মাঝেমধ্যেই।
  • পোষা প্রাণীর খাবারে থাকা উচিত বৈচিত্র্য। প্রতিদিন একই খাবার কারোরই ভালো লাগে না। সবসময় একই খাবার পোষা প্রাণীটির মধ্যে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করে। আবার সবসময় মাছ-মাংস দিলে সেটি কুকুর-বিড়ালের শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে পোষা প্রাণীটিকে একেক দিন একেক ধরণের খাবার দেয়া উচিত। রান্না করা মুরগীর কলিজা কুকুরের পছন্দের একটি খাবার। পুষ্টিকর এই খাবার কুকুরকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
  • পোষা পাখির ক্ষেত্রে আপনার পাখিটি কী পাখি, সেটার ওপর নির্ভর করে তার খাদ্যাভ্যাস। তবে ভিন্ন ধরণের পাখির ভিন্ন ধরণের খাবার খায়। গুগল করে জেনে নিতে পারবেন আপনার পাখিটি কী খায়। পাখিদের জন্য ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান খুবই প্রয়োজন। তাই, আপনার পোষা পাখিটি যেন ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান সঠিকভাবে পায়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া বাজারে পাখির প্যাকেটজাত খাবার কিনতে পাওয়া যায়।
  • পোষা প্রাণীর জন্য আলাদা খাবার ও পানির পাত্র নির্ধারন করুন।
  • পোষা প্রাণীর জন্য মানসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সবসময় নিশ্চিত করতে হবে।

 

http://blog.meenaclick.com/index.php/posha-prani/বাসস্থান

  • বাড়ির পোষা প্রাণীটির(posha prani) থাকার জায়গা হওয়া চাই আরামদায়ক। পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে সেখানে। জায়গাটি সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া চাই। এতে করে কোনো জীবাণু আক্রমণ করতে পারে না এবং পোষা প্রাণীটিও থাকে আরামে।
  • কুকুরের থাকার জায়গা সবসময় ফ্লোর বা মাটি থেকে অল্প হলেও উঁচুতে তৈরী করা উচিত। বাড়ির সামনে উঠান থাকলে সেখানেও তৈরী হতে পারে বাসস্থান। অনেক জাতের কুকুর গরম সহ্য করতে পারে না একদমই। তাই খেয়াল রাখতে হবে, প্রিয় কুকুরটি যেন পর্যাপ্ত বাতাস পায়।
  • বিড়ালের থাকার জায়গাও অনেকটা এমনই হওয়া চাই। তবে বিড়াল নরম এবং গরম জায়গা পছন্দ করে। তার আরামের দিকেও কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে।
  • বিড়াল ও কুকুরের জন্যা আলাদা থাকার জায়গা করে দিলেও তারা পুরো ঘরজুড়েই থাকে। অনেকের ধারণা যে, কুকুর বা বিড়াল সঙ্গে নিয়ে ঘুমালে সমস্যা হতে পারে। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কুকুর বা বিড়ালের সঙ্গে ঘুমালে আপনি মানসিকভাবে প্রশান্তি পাবেন। তবে এক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
  • খরগোশকে গোসল করানোর প্রয়োজন হয় না। খরগোশ পানি সহ্য করতে পারে না। তাই, খরগোশের খাঁচা প্রতিদিন খুব ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  • পাখির খাঁচায় চাই প্রচুর আলো ও বাতাস। খাঁচায় বন্দি পাখি যেন বুক ভরে বাতাস নিতে পারে, সে জন্য পাখির খাঁচা সবসময় বারান্দায় রাখা উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বৃষ্টির পানি যেন পাখির শরীরে না লাগে। পাখি যেন একটু উড়াউড়ির সুযোগ পায় সে জন্য খাঁচা হওয়া চাই বড়।
  • ছোট্ট মাটির কলসে খড়কুটো দিয়ে সেটি খাঁচায় রাখুন। এ কলসেই পাখি ডিম পারে।
  • পাখির গোসলের জন্য বড় পাত্রে পানি ভরে খাঁচায় রাখুন। গোশল শেষে সরিয়ে নিন।
  • পাখি সবসময় খাঁচায় থাকে বলে খাঁচা খুব তাড়াতাড়ি অপরিষ্কার হয়ে যায়। অল্প কদিনের ব্যবধানেই পাখির খাঁচা পরিষ্কার করতে হবে। না হলে রোগবালাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

http://blog.meenaclick.com/index.php/posha-prani/চিকিৎসা

  • কুকুরের সাতটি ভাইরাসজনিত রোগের জন্য একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। এক বছর পর পর এ ভ্যাকসিন দিতে হয়। এতে করে কুকুর ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায় এবং কুকুরের আচড় থেকে মানুষে মধ্যে খুব বেশি ক্ষতিকারক রোগ ছড়ায় না। এ ছাড়াও পশু চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অন্যান্য টিকা দিতে হবে।
  • বিড়ালেরও চারটি ভাইরাসজনিত রোগের জন্য একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। একইভাবে এক বছর পরপর ভ্যাকসিন দিতে হবে। পশু চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় অন্যান্য টিকা দিতে হবে।
  • পোষা প্রাণীকে কোনো ওষুধ খাওয়াতে হলে সেটি খাবারের সঙ্গে খাওয়ানো সুবিধাজনক।
  • খরগোশকে প্রতি তিন-চার মাস পরপর কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • কবুতরের বিভিন্ন রোগের জন্য বিভিন্ন টিকা রয়েছে। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সব টিকা কবুতরে দিতে হবে। এছাড়া কবুতেরর আমাশয় হয়। এর টিকা না থাকলেও চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে।
  • পোষা প্রাণীকে(posha prani) নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং নিয়মিত নক কেটে দিতে হবে। আপনার প্রিয় প্রাণীটিকে সবসময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।
  • পোষা প্রাণীর যে কোনো ধরনের রোগ হতে পারে। কখনোই নিজে নিজে এর চিকিৎসা করা যাবে না। পোষা প্রাণীর দেহে বা আচরণে অস্বাভাবিক কিছু দেখা দিলে অবশ্যই পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া আপনার কুকুর বা বিড়ালকে চার মাস অন্তর অন্তর পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

 

http://blog.meenaclick.com/index.php/posha-prani/অন্যান্য

  • প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টার আপনার কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বের হন।
  • আপনার পোষা প্রাণীটির(posha prani) সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করুন।
  • পোষা প্রাণীটিকে আপনার কমান্ড ফলো করতে শেখান। এতে করে পোষা প্রাণীটির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক হবে আরও ভালো।
  • সব প্রাণীরই ভিন্ন সময় ভিন্ন রকম মেজাজ থাকে। বিড়াল আদরপ্রিয় প্রাণী। কুকুর মাঝেমধ্যেই রেগে বসে থাকে। পোষা প্রাণীটির সঙ্গে তার মেজাজ ও স্বভাব অনুযায়ী আচরণ করুন।
  • কোনো প্রাণীকে পোষা(posha prani) প্রাণী হিসেবে নেয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিবেন আপনার পরিবারের কারও অ্যালার্জি আছে কিনা এবং আপনি যত্নসহকারে প্রাণীটিকে লালন-পালন করতে পারবেন কিনা।
  • আপনার পোষা পাখিটিকে কখনো বিরক্ত করবেন না। অযথা খাবার ছুড়ে দেয়া, খাঁচার ভেতরে খোঁচা দেয়া- এসব কাজ পাখি একদমই পছন্দ করে না।
  • বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালে পোষা প্রাণীদেরও জন্যও প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। কুকুর-বিড়াল বা অন্যান্য পোষা প্রাণীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও বাঘের মধ্যে এ ভাইরাস পাওয়া গেছে। বিড়াল ও বাঘ একই পরিবারের (ফেলিডে)। অতএব, আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে এ সময় ঘরে রাখুন ও জীবাণুমুক্ত রাখুন।

যত্নে থাকুক, ভালো থাকুক আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটি(posha prani)।