Reading Time: 3 minutes

আর কিছুদিন বাদেই বছর ঘুরে আবার দেখা মিলবে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সবচেয়ে কাঙ্খিত মাস মাহে রামজান-এর। মাহে রামজানের বিশেষত্বই হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকা। ফলে একটি দীর্ঘ সময় শরীরে কোন প্রকার খাদ্য ও পানীয় না গ্রহণ করার ফলে, রোজার শেষে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান হিসেবে শরীর, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষ খাবারের গ্রহণ করতে চায়। তাই দীর্ঘ সময় পর ইফতারে খাবার হওয়া জরুরী সহজ ও সুপাচ্য। শুধু তাই নয়, খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর ও সুষম।

প্রথমেই আপনাকে মনে রাখতে হবে, সেহরীর সময় কখনোই শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলাও বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। খেতে হবে পরিমাণমতো।

চলুন জেনে নেয়া যাক  কী খাবেন মাহে রামজানে!

সেহরী

রোজার সময় সেহরীতে খাদ্য নির্বাচন খুবই গুরত্বপূর্ণ। আপনার সারাদিনের এনার্জি নির্ভর করবে এর-ই উপরে। এসময় খাদ্য তালিকায় আমিষ, সুষম-ও খাদ্য রাখা প্রয়োজন। আর সবজি যেন বাদ না পড়ে তা-ও দেখা জরুরী। খাবার যে অধিক দামী ও ভারী হতে হবে এমন কথা নেই। পাঁচ-দশ পদের বিশাল মেন্যুর চেয়ে সঠিক মাত্রার সুষম, আমিষ ও ভিটামিন খাদ্য প্রয়োজন। মিশ্র সবজি, মাছ অথবা মাংস ভাতের সঙ্গে খাবেন। অধিক তেল, অধিক ঝাল, অধিক চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া একদম উচিত নয়। বরঞ্চ খাদ্য তালিকায় ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার রাখুন। যেমন আঁশসমৃদ্ধ খাবার শস্য, ছোলা, ডাল লাল আটা, বাদাম, বিনস, ইত্যাদি খেতে হবে। এই খাবারগুলো হজম হয় ধীরে ধীরে। ফলে, খুব দ্রুত ক্ষুধাবোধ হয়না। রক্তে চিনির পরিমাণ তাড়াতাড়ি বাড়তে দেয় না। যেহেতু রোজার সময় শরীরে স্বাভাবিক পানির চাহিদা পূরণে কিছুটা বাঁধা প্রাপ্ত হয়, সেহেতু ইফতার হতে প্রায় আপনাকে সাত-আট গ্লাস পানি খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদরা। খাবার খুব ভালোভাবে চিবিয়ে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে যেন হজম হতে পারে। অতিরিক্ত লবণ ও লবণাক্ত খাবার পরিহার করুন।

ইফতার

মাহে রামজানের সময় ইফতার যেন এক উৎসবের নাম। বাহারি রকমের খাবারের পসরা যেন সাজিয়ে বসি আমরা। তবে, সারাদিন না খাবার পর, শরীরের মধ্যে খাবার গেলে নানান প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ফলে খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। একজন রোজাদার কী খাবেন সেটা নির্ভর করবে তার বয়স ও স্বাস্থ্যের উপর। ইফতারের সময় শুধু বাড়িতে নয়, ভাজা-পোড়া বানানোর হিড়িক পড়ে রাস্তা-ঘাটে, ফুটপাতে, অলি-গলিতে। এসব খাবার কিনে খাবার সময় সর্তক থাকতে হবে। ভেজাল তেল ও কৃত্রিম রং মিশ্রিত থাকে এসব খাবারে বেশিরভাগ সময়। ফলে, এসব খাবার না খাওয়াই ভালো। বাড়িতে বানানো ভাজা পোড়া খাবার যেমন, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডিম চপ ইত্যাদি খাবার প্রতিদিন না খেয়ে একদিন বা দুইদিন বিরত দিয়ে খাওয়া ভালো। এতে অ্যাসিডিটি হবার সম্ভাবনা কম থাকে। ইফতারিতে খেজুর বা খোরমা, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পেঁয়াজি, বুট, ফরমালিন অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইডমুক্ত মৌসুমি ফল থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফলমূলে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং সহজে তা হজম হয়। তাছাড়া, বাগিতে বানানো ভেজিটেবল নুডলস-ও হতে পারে দারুণ ইফতার। একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, রোজার সময় শরীরে পানির চাহিদার ঞাটতি থেকে যায়। ফলে এসময় বেশি করে চা বা কফি খাওয়া ঠিক হবে না। এতে করে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়। ফলে, এগুলো অতিরিক্ত খেলে শরীরে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ সময় ইসবগুলের ভুষি ইফতারে শরবতের সাথে থাওয়া যেতে পারে। ইফতারের আইটেমে প্রচুর ফল-মূল ও শাকসবজি রাখুন। এগুলো আপনার শরীর ও ত্বক দুটোকেই সজীব রাখবে।

পবিত্র মাহে রমজানে পরিমিত ও ভালো খান, সুস্থ থাকুন।